আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে স্বর্ণের দাম। বৈশ্বিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডি’স শুক্রবার বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের ঋণমান কমিয়ে দিয়েছে। এতে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা বেড়েছে স্বর্ণের। এর ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল সাপ্তাহিক লেনদেনের প্রথম দিনে মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের ঋণমান কমিয়ে দেয়ার কারণ হিসেবে দেশটির ক্রমবর্ধমান ঋণের কথা উল্লেখ করেছে মুডি’স। এরই মধ্যে এ ঋণের পরিমাণ ৩৬ লাখ কোটি ডলারের ঘর স্পর্শ করেছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে, যার প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারে।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম বেড়ে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ২৩৪ ডলার ৪১ সেন্টে স্থির হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে এ সময় মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য পৌঁছেছে ৩ হাজার ২৩৭ ডলার ৭০ সেন্টে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান সুইসকোটের এক্সটার্নাল অ্যানালিস্ট কার্লো আলবার্তো দে কাসা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। গত সপ্তাহজুড়ে দাম কমার পর চলতি সপ্তাহের লেনদেনের শুরুর দিনে আবারো আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ২০০ ডলারের ওপরে বেচাকেনা হচ্ছে।’
ডলারের বিনিময় হার গতকাল অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে দশমিক ৭ শতাংশ কমে গেছে। ডলারের বিনিময় হার কমে গেলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হয়, যার প্রভাব পড়ে দামে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট রোববার একাধিক টিভি সাক্ষাৎকারে জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় অন্যান্য দেশ ‘সৎ মনোভাব’ প্রদর্শন না করলে তিনি ‘হুমকি’ অনুযায়ী শুল্ক আরোপ করবেন। আবার চীনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার তথ্যও বৈশ্বিক বাজারে ঝুঁকি তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তার সময় স্বর্ণ সাধারণত আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে ব্যবহার হয়। গত ২২ এপ্রিল মূল্যবান ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি রেকর্ড ৩ হাজার ৫০০ ডলার ৫ সেন্টে পৌঁছেছিল। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ২২ শতাংশ বেড়েছে।
মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস এক বিবৃতিতে জানায় ‘মার্কিন রিজার্ভ ব্যাংকের সুদের হার কমাতে দেরি ও মন্দার আশঙ্কা কিছুটা কমলেও বছরের শেষে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৭০০ ডলারে পৌঁছতে পারে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় তা আউন্সে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জানান, ফেডারেল রিজার্ভের উচিত ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব’ সুদের হার কমানো।
এদিকে স্পট মার্কেটে গতকাল রুপার দাম বেড়েছে দশমিক ৬ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য স্থির হয়েছে ৩২ ডলার ৪৬ সেন্টে। এ সময় প্লাটিনামের দাম দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি মূল্য পৌঁছেছে ৯৯৪ ডলার ৬০ সেন্টে। গতকাল প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছে দশমিক ৮ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৬৮ ডলার ৩২ সেন্ট।